ফ্যাক্ট হচ্ছে আমরা প্রশ্ন করি না যতো সময় পর্যন্ত নিজেদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা না হয়।
ব্যাংক যখন ডিসপিউট না নেয় তখন বিকল্প ভাবে অভিযোগ নথিভুক্ত করা, এবং যখন লিগ্যাল অথরিটি সঠিকভাবে অভিযোগ না নেয় বা ভয় দেখিয়ে ঘুরিয়ে দেয় তখনো বিকল্প ভাবে অভিযোগ নথিভুক্ত করা ভিক্টিমের কর্তব্য বাধ্যতামূলক।
যতো সময় পর্যন্ত সঠিকভাবে অভিযোগ নথিভুক্ত না হবে, ততখন পর্যন্ত কোনো ক্রাইম বা ফ্র্ড হয়নি - লিগ্যাল সিস্টেমের ভাষায়। তাই তারা কেউই জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যায়।
এই যে AePS সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে বিভিন্ন ভাবে, এরা কে বা কারা, কে এদের অনুমতি দিয়েছে, কে সাহস দিচ্ছে এই ধরনের ক্রাইম করার জন্য।
কারন যে কেউ তো আর এই ধরনের কাজ করতে পারে না। এই AePS সিস্টেমের মাধ্যমে টাকা তোলার জন্য অনেক ধরনের অনুমতি এবং ভেরিফিকেশন দরকার হয়।
যেমন AePS সিস্টেম কে বা কারা ব্যাবহার করে টাকা তুলতে পারবে তার জন্য লিগ্যাল সিস্টেম আছে।
যে বা যারা (অথরিটি) ভেন্ডর বা কোম্পানী গুলোকে অনুমতি দিয়েছে AePS সিস্টেমের মাধ্যমে টাকা তোলার তারা কি কি সর্তের ভিত্তিতে দিয়েছে, তাদের দায়িত্ত্ব কতটা। তাদের কি কোনো দায়িত্ত্ব নেই কাদের হাতে তুলে দিচ্ছে AePS সিস্টেম।
যে সমস্ত কোম্পানীর বা ভেন্ডরের এজেন্ট থেকে AePS সিস্টেম ব্যাবহার করে টাকা তুলছে তাদের তো স্থায়ী লিগ্যাল বৈধতা আছে, তারা তো আর ওই ভাড়ায় নেওয়া ব্যাংক একাউন্টের মতো, নাম ঠিকানা ছাড়া অস্তিত্ব হীন নয়।
যখন এদের ব্যকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন হয়েছিলো তখন যে বা যারা ভেরিফিকেশন করেছিলো তারা কি দেখে করেছিলো।
- যে সমস্ত কোম্পানী বা ভেন্ডরদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাদের কোনো জবাব দেহী নেই?
- যে বা যারা অনুমতি দিয়েছে কোম্পানি বা ভেন্ডরদেরকে তাদের জবাব দেহী নেই?
- ব্যাংক, লিগ্যাল অথরিটি, গভর্নমেন্ট, আধার, এবং AePS সিস্টেমের অথরিটি, ইত্যাদি এদের কোনো জবাব দেহী নেই?
শুধু আধার লিংক করে দিলেই হয় না, তার দায়িত্ত্ব কে নেবে?
সতর্কতার নাম করে আধার লক করে রাখুন, ইত্যাদি ইত্যাদি করুন বলতে কতো সময় লাগে, কিন্তু এতো বড়ো সিস্টেমের জবাব দেহী থাকবেনা?
সাইবার সচেতনতামূলক তথ্য দেখা শোনা অবশ্যই প্রয়োজন একইসঙ্গে নিজেকেও প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।
কিছু প্রশ্ন যার দিকে অনেকেই ঘুরে তাকাতে চায় না সহজেই -
১) সম্পূর্ণ দেশে মোট কত শতাংশ মানুষের আধার কার্ডের সঙ্গে ভ্যালিড এবং রেগুলার নম্বর সংযোগ আছে।
২) কতো শতাংশ মানুষের কাছে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সম্পূর্ণ ভাবে আছে।
৩) কতো শতাংশ মানুষ কম্পিউটার এবং স্মার্টফোনের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানেন।
৪) কতো শতাংশ মানুষ ইন্টারনেটের ব্যবহার, ওয়েবসাইট ব্যবহার, এপপ্স ব্যবহার, বেসিক সাইবার সিকিউরিটি প্রটোকল জানেন।
৫) কতো শতাংশ মানুষ সঠিকভাবে লিখতে, পড়তে, এবং স্বাক্ষর করতে জানেন।
৬) কতো শতাংশ মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে নিয়মিত ভাবে আধার বায়োমেন্ট্রিক ব্যবহার করেন।
ইত্যাদি আরো বহু গ্রাউন্ড রিয়েলিটিতে অনেক প্রশ্ন আছে যা অনেকেই আলোচনা করতে চায় না, জানলেও এড়িয়ে যায় এই ফ্যাক্টস গুলো নিয়ে আলোচনা করতে।
বেশিরভাগই ভাবে তারা প্রতিদিন খেতে পাচ্ছে, জিবি জিবি ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, স্মার্টফোন ব্যবহার করছে, কম্পিউটার ব্যবহার করছে, সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় কাটাচ্ছে, কিন্তু সবার ক্ষেত্রে সমান নয়, তাই যেটা খুব সহজেই বলে দেওয়া যায় আধার লক করে রাখুন, যখন প্রয়োজন তখনই খুলুন - বলতে সময় লাগেনা। কিছু ক্ষেত্রে মানুষ পারলেও সবার ক্ষেত্রে আজও তা অসম্পূর্ন।
সর্বত্র আধার সংযুক্ত করে দিয়ে আধার সিস্টেম কতটা সুরক্ষিত সেটা নিয়ে প্রশ্ন আসছে না। প্রশ্ন আসছেনা আধার অথেন্টিকেশন দুই স্তরে কেন হচ্ছে না। শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট নয়, সঙ্গে আইরিশ অথবা ও টি পি অথবা অথেন্টিকেটর সিস্টেম দিয়ে ডবল ভেরিফিরেশন করা খুবই প্রয়োজন কিন্তু তার জন্য অনেক কিছুই আপডেট করাতে হবে, আরো নতুন ভাবে সিকিউরিটি সিস্টেম প্রস্তুত করতে হবে, কিন্তু তা নিয়ে প্রশ্ন নেই।
AePS সিস্টেমের মাধ্যমে টাকা তোলার সিকিউরিটি স্টেপস আপডেট করা দরকার, যেমন -
১) এজেন্ট এবং গ্রাহক দুজনেরই ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক।
২) এজেন্ট এবং গ্রাহক দুজনেরই (IRIS) আইরিশ অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক।
৩) এজেন্ট এবং গ্রাহক দুজনেরই লাইভ জিওটেগড (Geo-tagged) ফটো তোলা বাধ্যতামূলক।
৪) ব্যাংক থেকে লেনদেন কনফার্মেশন কল, গ্রাহকের রেজিষ্টার নম্বরে (আঞ্চলিক ভাষায়), অ্যাকসেপ্ট অথবা ডিসপিউট।
৫) ১৫ দিন অন্তর এজেন্টের প্রতিটি লেনদেন অডিট করা, যে যে কোম্পানি বা ভেন্ডরের সঙ্গে সংযুক্ত, তারাই করবে। এবং কোম্পানি বা ভেন্ডরদের দায়িত্ত্ব এবং জবাব দেহী বাধ্যতামূলক।
৬) ভিডিও সঙ্গে অডিও রেকর্ডিং, যেখানে এজেন্ট গ্রাহকের সঙ্গে লেনদেন কথা, গ্রাহকের নাম, ইত্যাদি।
সাইবার ক্রাইম যে কোনো সময় যে কারোর সঙ্গে হতে পারে, সে যতোই এক্সপার্ট হোক বা একদম কিছু জানে না। তাই সবাইকেই প্রস্তুত থাকার প্রয়োজন।