পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বর্তমানে মানুষ মারা বক্সের কম্পিটিশন, অস্বাভাবিক বক্সের ভাইব্রেশনের জন্য ফেমাস হয়ে উঠেছে। মানুষ মারা বক্সের আওয়াজের উৎসব চলছে প্রায় প্রতি সাপ্তাহে কোথাও না কোথাও। দূর দূর থেকে মানুষ আসছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তো অন্যান্য রাজ্য থেকেও মানুষ আসছেন এই বক্সের কম্পনের উৎসব দেখতে উপভোগ করতে।
বিভিন্ন রাস্তায়/গ্রামে/শহরে/যেকোনো জনবহুল স্থানে অতিরিক্ত বক্সের কম্পন এবং লাউড স্পিকার যেকোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষকে অসুস্থ এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আনতে পারে যেকোনো সময়ে, এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং প্রান হানিও হতে পারে। ছোটো শিশু থেকে সমস্ত বয়সের মানুষের জন্য খুবই ক্ষতিকর বর্তমান এবং ভবিষ্যতে এফেক্ট আনে এবং আসে পাশের পরিবেশে বিভিন্ন পশু পাখি সবাইকেই এই বক্সের উন্মাদনার জন্য ভুগতে হয়।
বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় বক্সের কম্পনের উৎসবে প্রায় পুলিশ এবং ভলেন্টিয়ার থাকে, তখন যদিও প্রশ্ন করা হয় কে? কেন? এই ভাবে বক্সের কম্পনের আওয়াজ এবং লাউডস্পিকারের অনুমতি দিয়েছে, তখন উত্তর আসে কোনো রকম অনুমতি দেওয়া হয়নি, যদি অনুমতি দেওয়া হয়নি তাহলে প্রশাসন ওখানে কি করছে?
অন্যান্য জেলা এবং বিভিন্ন রাজ্যের কাছে যেন একটি উদাহরণ হয়ে উঠে শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা বন্টন করার জন্য - যদি এইধরনের লাউডস্পিকার এবং বক্সের কম্পনের আওয়াজের বিরুদ্ধে প্রশাসন নিষ্পক্ষ ভাবে কোনো রকম ভেদাভেদ না করে সক্রিয় হয়, কিন্তু তা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না আজও পর্যন্ত। যে যেমন যা পারছে তাই করছে।
আবার প্রতিবাদ করলে অনেক স্থানে টার্গেট হয়ে যাচ্ছে, অসামাজিক ভিড় ইচ্ছাকৃত ভাবে নানান ধরনের সাধারণ জীবন যাপনকে অস্বাভাবিক করে তচনচ করে দিচ্ছে। শান্তির জন্য দিশা দেখানোর পথিক লুপ্ত হচ্ছে কিন্তু রাজস্ব, ক্ষমতা, অস্বাভাবিক লোভ মানুষকে দানবে পরিণত করছে।
সামান্যতম মানবিক বোধ জ্ঞান থাকলেও এই ধরনের অমানবিক কার্য্য কলাপের বিরুদ্ধে সকলে সঙ্গবদ্ধ ভাবে প্রতিবাদ করবে বর্তমান এবং আগামীর জন্য, কিন্তু মানুষ এখন ব্যাস্ত, কোনো না কোনো ভাবে এড়িয়ে যেতে চায় বেশিরভাগই।
রাজ্যে জেলায় কে বা কারা এরা, যারা এই ধরনের কার্যকলাপ নির্ভয়ে ওপেন ভাবে দিনের পর দিন মানুষ মারা বক্সের উন্মাদ উৎসব করেই চলেছে, কিছু সংক্ষেপ লিংক -
শিক্ষা ব্যবস্থার হাল আমরা সবাই জানি দেখছি কি দুর্দশা, অন্যদিকে কর্মসংস্থান এবং দৈনন্দিন রোজকারের পরিস্থিতি, চার দিকে শীমা হীন দুর্নীতি, এই সব নিয়েই জীবন চলছে কিন্তু তারমধ্যে যদি শান্তির কোনো পথ না থাকে তাহলে রাজ্য বা জেলা দুটির ই কি দুর্দশা হচ্ছে এবং আরো ভয়ানক হতে চলেছে তা কল্পনার বাইরে। কারন সঠিক কাজ, শিক্ষ্যা, রোজকার, ইত্যাদি না থাকলে সব কোন দিকের পথ খুলছে তা আমরা জানি দেখছি, এক একটা গ্রামে, পাড়ায়, মোড়ে এবং বিভিন্ন এলাকা অনুযায়ী, নিচ থেকে উপর তলার সিস্টেমের সাহায্যে অসামাজিক সেনা মজবুত হচ্ছে।
আমরা একটি মানবিক সমাজের মধ্যে বসবাস করি, সমাজের শান্তির জন্য আমরা সকলেই দায়বদ্ধ, কিন্তু এই পাঠ অনেকেই পড়েও পড়েনি আবার কেউ জানলেও জানতে চায় না, রক্তের জোরে।
"আমার বিশ্বাস, আজ না হয় আগামীদিন বা আগামীদিনে বদলাও আসবে, হয়তো সময় লাগবে। যে বা যারা সিস্টেমে আছে তারা চিরকাল থাকবে না, একটু অন্য ধরনের চিন্তা ধারনার মানুষ আসবে। শান্তির পথের পথিকের অপেখ্যায় রইলাম।"
কিছু প্রশ্ন -
- লাউডস্পিকার এবং অস্বাভাবিক বক্সের কম্পনের জন্য প্রতিযোগিতা এবং কোনো রকম স্পেশাল অনুমতি কি আদৌ কোনোভাবে বিবেচনার যোগ্য?
- কে বা কারা অনুমতি/সাহস/সঙ্গ/প্রোটেকশন দিচ্ছে এবং কেন ?
- কেউ কি দেখতে, শুনতে, অনুভব করতে পাচ্ছে না?
- যাদের দায়িত্ত্ব শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা বন্টন করা তারা কি মেরুদন্ড হায়িয়ে ফেলেছে?
- বর্তমান এবং নবপ্রজন্মকে আমরা কি উপহার দিচ্ছি, শিখাচ্ছি ভবিষ্যতের জন্য - এই ধরনের সমাজ ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে?
- শান্তির পথের পথিক এখন যেন লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, কে বা কারা বাধ্য করছে? কেন? শান্তি মানুষের চাহিদার কাছে নত হতে হতে হারিয়ে যাচ্ছে নাকি আমরাই মুছে ফেলছি আমাদের স্বার্থের জন্য?
- মানুষ মানুষকে শোষণ করছে একের পর এক পিড়ি শতাধীক বছর ধরে চলে আসছে এই কালচার, তাহলে আমরা বর্তমান এবং আগামীকে কি একই প্রথায় এগিয়ে দিচ্ছি নাকি শান্তির জন্য পথ খুঁজছি?